Thursday, October 8, 2015




শুধু লিখে কি হবে

কবিতার  ভাষা  হারিয়েছে  তাঁর  সুর , চারিদিকে বাজে  কর্কশ ধ্বনি আজ
মুখের  আসল  আদল  গিয়েছে  ঢেকে,  সবারই  তো দেখি  কৃত্রিমতার  সাজ |
কালো  মেঘে  আজ  আকাশ  যে  আছে  ঢাকা , ধোঁয়াশায় আজ  বাতাস  গিয়েছে  ভরে
সবাই  আমরা  পাশাপাশি  আছি  তবু , প্রতিমুহুর্তে  সরে  যাই  দুরে  দুরে |
এত  কিছু  পেয়ে  ভরেনা  এ মন  ,তবু  ভাবি, আর কি  কি  পেতে তাও   রয়ে  গেছে  বাকি
চাওয়া পাওয়ার খেলা  হবেনা  যে শেষ  কোনদিনও , দিয়ে  যাই   শুধু  একে  অন্যকে  ফাঁকি |  
সারদিন  তাই   নিজেকে  নিয়েই চলা   ,এভাবেই  চলবে  আরো  যতদিন  বেঁচে  আছি
করে  যাব  শুধু  স্বার্থের  সংগ্রাম  ,ফিরে  কি  আসব জীবনের  কাছাকাছি ?
কি  বা  হবে  আর  দু- চার  লাইন  লিখে , যদি  পাল্টাতে  না  পারি  এই  দুঃসময়ের  ছবি
আমার  এই  লেখা  অচিরে  যাবে  যে  মুছে ,   জন্ম  নেবে  এক নতুন  ব্যর্থ  কবি |





আমি এক সিরিয়ান

তোমাদের  দেশ  নাচে  উল্লাসে , গায়  যুদ্ধের  জয়গান
আমার  স্বদেশ  কাঁদে  অবিরাম  ,আজ  তার  লুন্ঠিত  সম্মান |
তোমরা  সবাই  আমন  চেয়েছ ,তাই  বোমা  ফ্যালো  অনায়াসে |
আমার  ভাই রা  লাশ  হয়ে   নীল  সাগরের  জলে  ভাসে  
আল্লাহ  হয়েছে  নির্বাক  আজ , লুকিয়েছে  তার  মুখ ,
রক্তের  স্রোতে  ভরেছে  সাগর,  তবু  মেটেনা  ওদের  ভুখ |

ইসলাম  মানে  শান্তির  বাণী,  নয়   যুদ্ধের  পাঠশালা
সেসব  ভুলে  আজ  একদল  খেলে  নরহত্যার  লীলা |
কালো  মুখোশের  আড়ালে  আজ  বিকৃত  মানবতা
কত  শিশু   বেঘর হয়েছে ,  হারিয়েছে  পিতামাতা |
আমরা হয়েছি রিফিউজি আজ ,আমরা  যে  দিকভ্রান্ত
জীবন  থেমেছে   তবুও  থামেনা  ,মানুষ  কাটার  যন্ত্র |

পশ্চিমী  সব  দস্যুরা  এসে  আমার দেশকে   লুটে
অনাথ শিশু রা কাঁদে অনাহারে তবু খাবার নাহিকো জুটে |
এখানে  কখনো  ওঠেনা  সূর্য  ,না  প্রাণ  খুলে  কেউ  হাসে |
কত  আইলান  নিস্থর  দেহে  সাগরের  জলে  ভাসে |
তোমরা  মানুষ  আমরা  যে  পশু , আমাদের  বেঁচে থাকা বড় ভয়
লাশ  হয়ে   মোরা  খুঁজে  চলি  শুধু  মৃর্ত্যুর  আশ্রয় |

Tuesday, September 29, 2015




মারণ খেলা

অন্ধকার  নেমেছে শহরের বুকে
আর নিয়নের আলো গুলো জাগিয়ে রেখেছে ঘুমন্ত শহরটাকে
এবারেই তো ক্ষুধার্ত অশরীরী  বাঘ টা করবে গর্জন
মেতে উঠবে শরীরের খেলায়
আর প্রাণহীন কায়া গুলো নিজেদের এগিয়ে দেবে শিকারীর কাছে
এটাই তো খাদ্য- খাদক সম্পর্ক
শিকারীর বাঁধন ছেড়া টান শিকারের নরম শরীরে

এটাই তো সেই চৌরাস্তার মোড়
প্রাচীন বাড়ি গুলো মাথা তুলে করে বিলাপ
এখানেই তো এক হয়ে গেছে অতীত আর বর্তমান
ভবিষ্যত ও পাল্টায় না তার গতিপথ

এই তো এসে ভিড় করেছে ওরা
জীভ দিয়ে ঝরছে লালসার আগুন
এখানেই খুজবে ওরা নিজের আদিমতা
আজ এখানেই বধ হবে কত সীতা আর সাবিত্রী
আর মা দূর্গা ফেলবে চোখের জল

এখানে তো সবাই প্রেমিকা
কে কাকে দেবে এত প্রেমের উত্তাপ
এই  আগুনে পুড়ে গেছে আমাদের মায়েদের মুখ
এখানে কি আর নামবে কালবৈশাখী
আর বৃষ্টিতে ভিজে যাবে  শরীরী আগুন


হারানো সবুজ


কোথায়  লুকোলো   সেইদিনের  সোনালী  সূর্য  , 
কোথায়  হারালো  সে  নবান্নের  গান ? 
কখন   মুছে  গেল  পৃথিবীর  পরে  সেই  সবুজ  ধান-খেত 
কে  নিল  কেড়ে  অরণ্যের  প্রাণ ? 

কেন  তুমি  হয়ে  আছ  নিশ্চুপ  নিস্থর ? 
রক্তে  ভিজেছে  আজ  কালো  কঠিন  প্রস্তর 

দ্যাখো  ওরা  উন্মত্ত  লালসায়  করে   ফসল  লুন্ঠন 
নেকড়ের  থাবা  হেনেছে  আঘাত  ,খুলেছে  মা  এর  অবগুন্ঠন | 

জানি  এত  সব  প্রশ্নের  মিলবেনা  কোনো  সদুত্তর , 
লোভের  আগুনে  জমি  পুড়ে  ছাই  চারিদিক  মরূ প্রান্তর 

তোমার  রক্ত  নিয়ে  খেলে,  ওরা  ভুলে   গেছে  রক্তের  উত্তাপ 
চলো  ফিরিয়ে  আনি  হারানো  সে  জীবনের  ছাপ | 

চলো  আবার  খুঁজি    সেই   শস্যের    পাঁচালির  সুর   
হে  ধরিত্রীর  সন্তান  কেন লুকিয়েছ  মুখ , চলে  গেছ  কেন   বহুদূর ? 

জেনে রেখো মেঘের  ভেতর  থেকে  হেসে  উঠবে  আবার  নতুন  সূর্য 
আসো তুমি ,ভেঙ্গে  দাও  সব  শিকল , গর্জে  ওঠো  ওগো  দুরন্ত  প্রাণ | 
ঘুম  থেকে  জাগবে  আবার হারানো সে   অরণ্য  ,জ্বলবে মশালের আলো 
লেখা  হবে   নতুন  ইতিহাস, বোঝা  যাবে  শিকড়ের  টান  |

Monday, September 21, 2015


বিরহী শরৎ



আজ  শরতের প্রাতে  শারদ  সুরে  মাতে 
সবার  হৃদয়ে আগমনী  গান বাজে 
মোর কি  যায় বা  আসে  তাতে  শুন্য জীবন কাটে 
তমসা ঘনায় আমার মনের  মাঝে 

শিউলী  যখন পড়ে ঝরে  উদাস  গন্ধে  মন ভরে 
তবু সে  তো  পায়না  কারও মন 
বৃষ্টি  ভেজা রাতের পরে শিশির ভেজা  কোন্  সে  ভোরে   
বাজবে  সানাই  আসবে মোর  বিদায়ের  ক্ষন 

নীল আকাশের উজ্জ্বল  হাসি পেঁজা   তুলোর মেঘ রাশি 
হিমেল হাওয়ায়  ভাসে গানের  ভেলা 
সব  কিছু তবু হারিয়ে পথে  ফিরবো অমি   রিক্ত হাতে 
আজ খেলব হারিয়ে যাওয়ার  খেলা
তিক্ত কথকতা


আমার চোখে দেখতে যদি  তুমি
জীবন তখন  লাগত প্রহেলিকা
চোখের  দৃস্টি  শান্ত সমুজ্জ্বল
মনের  ভেতর জ্বলে স্বার্থের শিখা

প্রেম ছিলো  তখন বর্ণময়  ছবি
ছিল অভিসার  আর সাত টি  রঙএর ছটা
অভিব্যক্তি  হারিয়েছে  তার  ভাষা
মুছে  গেছে  সব বর্ণের ঘনঘটা

কথার  মাঝে  থাকতনা যদি কথকতা
শব্দের  শোকে যদি  হতাম নির্বাক
অর্থের  শেকলে  পড়তনা  হতে  বাঁধা
প্রেম  পরিণয়  পুড়ে  হয়ে গেছে  খাক

কে করে গেছে  মৃর্ত্যুর আয়োজন
বিষাদের সাথে অনন্ত পথ  চলা
শূন্যতা শুধু বাড়িয়ে দিয়েছে  হাত
সব কথা তাই  হল না যে  আর বলা

Tuesday, September 8, 2015


নগ্নতার হাতছানি


আজকে সকালে সূর্যের রং লাল
আর মনের  ভেতরে লোহিত কনিকা হয়ে উঠেছে আরো উষ্ণ ফুটন্ত উত্থিত সাদা দুধ এর মতো
মনের দরজায় কড়া নাড়ে আদিমতা আর  বর্বরতা
এই এক অশ্লীল খিদে
আত্মঘাতী জঘন্য নেশা গ্রাস করে আমাকে
নদী থেকে সমস্ত জল শুষে নিতে চাই
ছিনিয়ে নিতে  চাই ফুল এর গন্ধটা কে

এই মন মাটির মূর্তি তে সোহাগ এর গন্ধ খোজে
বোবা পাথরের ঠোকাঠুকি তে আগুন জ্বালাতে চায়
শুকনো বালির তলায় লুকিয়ে আছে জল
সুধু পিপাসা মেটানোর খেলা
এই শরীর পূর্নিমা রাতের সৌন্দর্য খোজেনা
শুধু  দেখে প্রতিমার ভাস্কর্য্য
 আর নামতে চায় মৃর্ত্যুর খেলায়

সভ্যতার বুকে এভাবেই রক্ত ঝরে
আদিম আগুনে ঝলসে যায় যৌবন
লুঠ হয়ে যায় মাটির প্রতিমা
পড়ে থাকে সীতা বেহুলা দের কঙ্কাল
আর রাম রাবণরা এক সাথে উন্মত্ত লালসায় মেতে উঠে
মা এর মূর্তি থেকে বেরিয়ে আসে রং
আর বদলে যায় চেনা পৃথিবীর ছবি