স্বাধীনতা তখন স্বাধীনতা এখন
( কারার ওই লৌহ কপাট ভেঙ্গে ফ্যাল কর রে লোপাট )
এখানে
ছিল সুজলা সুফলা স্বপ্নপুরী
মাথার
উপরে আকাশ ছিল নীল
এখানে
জীবন ছিল মায়ামমতায় মাখা
ছিল আজান আর শাঁখের
সুরের মিল
এখানেই
এভাবেই কেটে গেছে কত
যুগ
নদীমাঝে
বয়েছে প্রেমের ধারা
এখানে
হিমালয় আর সাগরের বিশালতা
এখানে মানুষ কখনো হয়নি স্বজনহারা
কত জাতি আঘাত হেনেছে
যুগে যুগে
বারে বারে শুধু যুদ্ধের
পরোয়ানা
বুলেট
আর বারুদের কালো ছায়া
অক্ষত
তবু শান্তির সামিয়ানা
জাহাঙ্গীর
এর দরবারে বনিক দূত
চোখে লোভ আর আমার
স্বদেশ জয়ের স্বপ্ন
বয়েছে
রক্ত আসমুদ্র হিমাচলে
স্বাধীনতা
আমার হয়েছে বিপন্ন
ক্ষত বিক্ষত হযেছে দেশের
মাটি
আকাশে
সূর্য ঢেকেছে চোখের জলে
আমাদের
কভু হয়নি যে পরাজয়
সব শৃঙ্খল ভেঙ্গেছি মোদের
বলে
পলাশীর
মাঠে দেখিয়েছি বিক্রম
মনে পরে সেই আঠারশো
সাতান্ন
অসীম সাহসে গর্জে
উঠেছে প্রাণ
শত্রুকে মোরা করেছি ছিন্নভিন্ন
যৌবনের
কঠিন বজ্রাঘাতে
কেপেছে
জালালাবাদ কেপেছে বুড়িবালাম
কত ক্ষুদিরাম অকালে গিয়েছে ঝরে
গর্জে
উঠেছে আমার চট্টগ্রাম
লাঠি হাতে সেই বৃদ্ধ
গিয়েছে হেঁটে
বুক ভরা তার অদম্য
প্রত্যয়
বীর যোদ্ধার সেই 'জয় হিন্দ'
ডাকে
হযেছে
আমার স্বদেশ মাতার জয়
পেয়েছি
আমরা চিরমুক্তির স্বাদ
সব ফুল পড়েছে এক
সুত্রে গাথা
জীবন হযেছে ত্রিবর্ণরঞ্জিত
তোমার
আমার স্বপ্নের স্বাধীনতা
(স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হায় কে বাঁচিতে চায় )
আজ অনেক বছর পরে
দুঃসময়ের হাত ধরে
এসেছে আরেকটা মধ্যরাত আর সাথে নিয়ে শ্মশানের হাহাকার
এই অন্ধকারের কোথায় যে শেষ
কৃত্রিম আলোয় ঢেকেছে আমার স্বদেশ
স্বপ্নের অপমৃর্ত্যু আর স্বদেশী আত্মার বিদ্রোহী চিত্কার
হারিয়েছে সব সুখের গান
ভাইয়ের রক্তে রক্তস্নান
নীতিহীনতায় জীবন পরেছে বাঁধা
আল্লাহ হারিয়েছে তার ডাক
যিশু নিস্প্রান নির্বাক
মুছে গেছে প্রেম হারিয়েছে কৃষ্ণরাধা
মিলেনা যে তাই সুখের স্পর্শ
অভিশপ্ত ভারতবর্ষ
স্বাধীনতা আজ হারিয়েছে তার ভাষা
এখানে বেঁচে থাকা শুধু ভয়
প্রতিদিন সত্যের পরাজয়
এখানেই নেই কোনো সুখ আছে শুধু হতাশা
বিপ্লবের রব উঠেছে আবার
প্রতিবাদ হোক দুর্নিবার
একসাথে চলো একসাথে হাত ধরো
জ্বালাও আলো জ্বালাও আগুন
যৌবনে আজ এসেছে ফাগুন
বিদ্রোহ হবে আরও ইস্পাত দৃঢ়
ইতিহাস প্রস্তুত ঘরে ঘরে
বিদ্রোহী গান উদাত্ত স্বরে
আজ শোধ হয়ে যাক মা এর রক্ত ঋণ
আহত মোদের জ্যাত্তাভিমান
তাই মুছে যাক সব ব্যবধান
আমার ভারত হবে আবার স্বাধীন